Responsive image
*/?>

জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবস্থান সুদৃঢ় হউক

বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেকটাই গতিশীল ও স্থিতিশীল। এ বাজারের বাজার মূলধন অনেক বেড়েছে। এখানে নতুন নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত হয়েছে। স্বল্প মূলধনী কোম্পানির জন্য আলাদা প্লাটফর্ম করা হয়েছে। পৃথক বন্ড মার্কেট চালু করা হচ্ছে। গ্রীণ বন্ড চালু করা হয়েছে। বাজারের পরিধি বাড়াতে দেশ-বিদেশে মার্কেটিং করা হচ্ছে। পুঁজিবাজারকে বিস্তৃত করতে তৃণমূলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ডিজিটাল বুথ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য অনেক আইন-কানুন করা হয়েছে। বাজারে এখন বিপুল পরিমান বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশগ্রহণ করছেন। বাজারকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে আরও অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

 

সবমিলিয়ে আগামী দিনগুলোতে বিপুল সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। যেকোনো মূল্যে পুঁজিবাজারের এই সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে হবে।

 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ি, বর্তমানে বাংলাদেশের গ্রোস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট বা জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবদান প্রায় ২০ শতাংশ, যা পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পুঁজিবাজার জিডিপি’র ৮৩.৪০ শতাংশ; পাকিস্তান ৩৪.১ শতাংশ এবং জিডিপিতে শ্রীলঙ্কার পুঁজিবাজারের অবদান ২১.৫ শতাংশ। এছাড়া থাইল্যান্ডের বাজার মূলধন জিডিপির ১১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, নেপালের ৭০ দশমিক ০১ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার ১৪২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

 

তাই প্রতিবেশি দেশগুলোর অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশকে যেকোনো উপায়ে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে এটিকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু এ কাজ শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটিকে বাস্তবে রূপদানের জন্য আনুসঙ্গিক বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

 

উৎপাদনমুখি শিল্পে ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে নয়; পুঁজিবাজার থেকে অর্থায়ন করতে হবে। বড় বড় অবকাঠামোগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত করে এসব প্রকল্পের উন্নয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য একমাত্র পুঁজিবাজারকেই মূল অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিতে হবে। তৃনমূল পর্যায়ের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে জানান দিতে হবে। তাদেরকে ভয়ভীতিমুক্ত পুঁজিবাজার উপহার দিতে হবে। তাদেরকে পুঁজির নিশ্চয়তা দিয়ে বাজারমুখি করতে হবে। এতে দেশের বেকারত্বের সংখ্যা যেমনভাবে হ্রাস পাবে- তেমনি পুঁজিবাজারের বিস্তৃতিও বাড়বে।

 

সহায়ক নীতি সহায়তা ও কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারের যে অমিত সম্ভাবনা তাকে ফুঁটিয়ে তুলতে হবে। তবেই জিডিপিতে পুঁজিবাজারের অবস্থান আরও দৃশ্যমান ও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

 

(বিনিয়োগবার্তা/এসএএম/২৫ জুলাই ২০২১)

Short URL: https://old.biniyougbarta.com/?p=150734

সর্বশেষ খবর